plane

বিমান যেভাবে উড়ে বেড়ায় !

আকাশে বিমান উড়ার ব্যাপারটা সত্যিই বিস্ময়কর । আমরা অনেকেই বিমান আবিষ্কারের কাহিনী জানি, বিমানের নাম জানি, দামও জানি । কিন্তু জানি না এই বিমান আকাশে কীভাবে উড়ে বেড়ায় ? এই বিষয়ে কৌতুহলীদের আগ্রহ কিছুটা মিটাতে পারে এই প্রবন্ধটি । তবে এই জ্ঞান দিয়ে বিমান তৈরি করা যাবে না , শুধু বুঝতে পারা যাবে বিমান কীভাবে শূন্যে ভেসে থাকে এবং একি সাথে উড়ে বেড়ায় ।

বাতাস বা বায়ু এক ধরনের গ্যাসীয় পদার্থ যার একটা নিজস্ব ভর এবং পৃথিবীর অভিকর্ষের দরুন একটা ওজনও আছে ।১৬৪০ সালের দিকে বিজ্ঞানী টরিসেলি পারদ নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার সময় আবিষ্কার করেন যে বাতাসের ওজন আছে । বাতাসে রয়েছে আজস্র অনু -পরমানু এবং এরা সর্বদা ভ্রমণশীল । যার ফলে বাতাসে একটা চাপের সৃষ্টি হয় , যেই চাপের কারনেই আকাশে ঘুরি কিংবা বেলুন উড়তে পারে । সমস্ত খেচর বস্তুরই উড়ে বেড়ানোর জন্য বায়ু আবশ্যক । এই বায়ু কোন একক পদার্থ নয়, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, এবং সামান্য পরিমান অন্যান্য গ্যাসের মিশ্রণে বাতাস বা বায়ু গঠিত । বাতাসের গতিবেগ এবং প্রবাহের দিক অনিয়ন্ত্রিত । তাই আকাশে পাখি , বেলুন কিংবা ঘুরি সবসময় ইচ্ছামত উড়ানো যায় না । এখন বিমানের প্রসঙ্গে আসা যাক ।

একটা বিমানের অনেক ওজন হয়ে থাকে । যার ফলে সে সহজে উড়তে পারে না । একদিকে শক্তিশালী ইঞ্জিন অন্যদিকে পদার্থ বিজ্ঞানের কিছু নিয়ম মেনে নেওয়ার পর আসা করা যায় বিমান আকাশে উড়বে । তবে দক্ষ চালক না হলে বিমান চালানো খুব কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়াবে । Bernulli Effect এবং Dynamic Momemtam Transfer এই দুটি নিয়মের উপর নির্ভর করেই বিমান শূনে ভেসে বেড়ায়। এছারাও নিউটন এর গতির তিনটি সূত্রের পরোক্ষ প্রয়োগ রয়েছে বিমান উড্ডয়নে ।

Bernulli Effect: বিমানের পাখার আকার এমনভাবে গঠন করা হয় যেন তার উপরের তল অপেক্ষা নিচের তলে বায়ুর ঘনত্ব বেশি থাকে ।যার ফলে একটা ঊর্ধ্বমুখী বলের সৃষ্টি হয় , যা বিমানটিকে ঊর্ধ্বগামী করে তোলে ।বিমানের পাখার নিচের তল সর্বদা সমতল থাকে এবং উপরের তল সামান্য হেলানো দুটি তল দিয়েআবদ্ধ থাকে । যার ফলে নিচের তুলনায় উপরের তলের আয়তন বেশি থাকে এবং নিচের বায়ুর ঘনত্ব বেশি থাকে । বিমানের পাখার উপরের খাঁজকাটা অংশে দিয়ে বাতাস দ্রুত প্রবাহিত হয় । অন্যদিকে নিচের সমতল আংশ দিয়ে বাতাস তুলানামুলকভাবে ধীরে প্রবাহিত হয় । যার দরুন গতিঘর্ষণ এর নিয়ম অনুযায়ী (গতিশীল বস্তু যে তলের উপর দিয়ে প্রবাহিত তাতে তুলনামূলক কম বল প্রয়োগ করে ) বিমানের পাখার উপরে বাতাসের চাপ কম থাকে, তাই বিমান উপরের দিকে গমন করতে পারে ।

Dynamic Momemtam Transfer: নিউটনের গতির ২য় সূত্র থেকে আমরা জানি যে কোন গতিশীল বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার বস্তুর উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তন ও সেই দিকে হয় । বিমানে প্রাথমিকভাবে ইঞ্জিনের সাহায্যে বল প্রয়োগ করা হয় এবং এতে গতির সৃষ্টি হয় । কিছুক্ষণের মধ্যে প্রচণ্ড ত্বরণে ছুটে চলা বিমান বারনুলি প্রভাবের সাহায্যে উপরে উঠতে থাকে । অন্যদিকে বিমানের ইঞ্জিন আর প্রপেলারের মিথক্রিয়ায় অনবরত গতিশীল ভরবেগের পরিবর্তন ঘটতে থাকে। এবং এই ভরবেগের পরিবর্তন দ্বারা বিমান প্রচণ্ড গতিতে সামনের দিকে আগ্রসর হতে থাকে ।

aerodynamic_downforce+airplane_wing_diagram

 

Reference: www.science20.com

 

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *