cos

আমাদের মহাবিশ্ব কি নিজেই এক পরম কম্পিউটার ?

কম্পিউটার বলতেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে চারকোনা- একটি যন্ত্র। কিন্তু কম্পিউটার এর সংজ্ঞানুসারে এর আকার-আকৃতি কোন বিষয় নয়। আমাদের পরিচিত কম্পিউটার ছাড়াও এই মহাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকতে পারে আরও উন্নত নকশার আরও ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার, যা কোন মহান স্বত্বার অধীনস্থ হয়ে এই ব্রক্ষান্ডের যাবতীয় কর্মকাণ্ড এবং দৃশ্য-অদৃশ্য বস্তুর হিসাব নিকাশ করে যাচ্ছে অনবরত। আবার এমনটাও ভাবা যেতে পারে যে আমদের পুরো ব্রক্ষান্ড নিজেই এক মহা অসীম-আসাধারন কম্পিউটার।

দিন যতই যাচ্ছে আমাদের কম্পিউটারগুলোর ক্ষমতা ততই বেড়ে চলছে। আমাদের পৃথিবীতে সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পিউটারগুলোকে বলা হয় সুপার কম্পিউটার। এর কার্যক্ষমতার ব্যাপারে যা বলা যায় তা হল- সিকৈয়া বর্তমানের একটি নামকরা সুপার কম্পিউটার। যার গতি ১৬.৩২ পেটাফ্লপ। ৬৭০ কোটি মানুষ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে ৩২০ বছরে যে পরিমাণ হিসাব করতে সক্ষম সিকৈয়া মাত্র এক ঘণ্টায় সে হিসাব সম্পন্ন করতে পারে। এই কম্পিউটারে প্রসেসরের সংখ্যা ১.১৫ মিলিয়ন এবং এতে ১৫,৭২,৮৬৪ টি কোর রয়েছে।

দিন দিন কম্পিউটারের গতি এবং ক্ষমতা বেড়ে চলায় তা একটু একটু করে প্রাকৃতিক ঘটনা এবং শৃঙ্খলাতে হস্তক্ষেপ করে চলছে। এবং এরই সাথে কিছু প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে মানব মনে। এই যেমন-“আমাদের জীবন এবং পরিবেশের মিতস্ক্রিয়ায় যে মহাবিশ্ব আমাদের বয়ে নিয়ে চলছে তা কি নিজেই কোন এক মহান- সুপার অ্যাডভান্স কম্পিউটার?” আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানীগন বিজ্ঞানের যে নতুন ধারার কথা ভাবছেন সেখানে কম্পিউটারের ব্যাপারে যা ধরে নেওয়া হয়েছে তা হল- কম্পিউটার শুধুমাত্র যে কোন ঘটনার সম্ভাব্য অবস্থা বা কোন সমস্যার সম্ভাব্য সমাদান বের করেই ক্রান্ত হবে তা নয়,বরং এর দ্বারা যাবতীয় ঘটনা এবং সমস্যার বাস্তব  সমাদান বের করা সম্ভবপর হবে। কিন্তু কিভাবে মহাবিশ্বের রুপ নকশার সাথে কম্পিউটারের তুলনা করা যেতে পারে? ধরে নিন, মৌলিক কণাগুলো হল ইলেকট্রনিক বিট এবং পদার্থবিজ্ঞানের প্রাকৃতিক নিয়মগুলো হল কম্পিউটার এলগরিদম, তাহলেই সাধারনভাবে একটা তুলনা উপস্থাপন করা যায় ।

এটাকি আসলেই উপযুক্ত আগ্রগতি?মনে হয় না। কেননা আমরা এখনও এ ব্যাপারে তেমন কিছুই জানি না। কে ঐ মহা কম্পিউটারের চালক? কি রকম তার আকার- আকৃতি? মহাবৈশ্বিক কম্পিউটার কি সত্যিকারের কোন মহাজাগতিক কোড এক্সিকিউট করে যাচ্ছে অনবরত? যদি তাই হয় তবে তা কেমন? কি ধরনের প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যাবহার করে যাচ্ছে আমাদের মহাবৈশ্বিক কম্পিউটার ? আমরা কি কোনদিন তা জানতে পারব? হয়ত পারব না। তবে চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে। পৃথিবীর যত মুক্তচিন্তাধারার বিজ্ঞানী, গনিতবিদ,প্রোগ্রামার,ঐতিহাসিকরা যদি এক হয়ে এ ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করে তাহলে হয়ত একদিন আমাদের মত ছোট্ট পৃথিবীর মানুষের কাছেই ধরা দিবে মহাবিশ্বের বিস্ময়কর সব রহস্য এবং সমীকরণ।

Reference: www.scientificamerican.com

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *