brainvscimputer

সুপার কম্পিউটার এবং মানব মস্তিষ্ক? কার ক্ষমতা কত?

সফল হওয়ার জন্য একজন মানুষের অর্থ-বিত্ত, বংশমর্যাদা, শান-শওকত, জ্ঞান-গরিমা, ডিগ্রি-পদবির কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ সফল হওয়ার জন্যে যা প্রয়োজন তা স্রষ্টা জন্মগতভাবেই প্রতিটি মানুষকে দিয়ে দিয়েছেন। সফল মানুষ এ সম্পদ বা পুঁজিকে ব্যবহার করেই সফল হয়ে থাকেন। আর যারা ব্যবহার করে না তারাই হয় ব্যর্থ, হতাশ আর অকর্মণ্য। এই সম্পদ বা পুঁজির নাম হচ্ছে মস্তিষ্ক। মস্তিষ্ক যে কত বড় পুঁজি, কত বড় সম্পদ তা আমরা কিছুটা বুঝতে পারবো যদি হিসেব করে দেখি যে, মস্তিষ্ককে বাজারে কিনতে হলে কিরকম দাম দিতে হতো। আমরা জানি মস্তিষ্কের কাছাকাছি (শুধুমাত্র তুলনা করার জন্য) যে যন্ত্র বাজারে পাওয়া যায় তা হচ্ছে কম্পিউটার। ক্রে-১ হচ্ছে একটা সুপার কম্পিউটার। এর ওজন ৭ টন। আর মস্তিষ্কের ওজন হচ্ছে দেড় কিলো। ক্রে-১ কম্পিউটারের এই ৭ টনি দেহে ৬০ হাজার মাইল তার ব্যবহার করা হয়েছে। আর মস্তিষ্কের এই দেড় কেজি ওজনের মধ্যে যে তার ব্যবহার করা হয়েছে তার দৈর্ঘ্য ২ লক্ষ মাইল। ক্রে-১ কম্পিউটার প্রতি সেকেন্ডে ৪০০ মিলিয়ন ক্যালকুলেশন বা হিসেব করতে পারে, মস্তিষ্ক পারে ২০ হাজার বিলিয়ন। অর্থাৎ মস্তিষ্ক এক মিনিটে যে কাজ করতে পারবে ক্রে-১ সুপার কম্পিউটারের সেটি করতে লাগবে ১০০ বছর।
  • বৈশিষ্ট
  • ওজন
  • তার
  • ক্যালকুলেশন
  • সম্ভাবনা
  • ক্রে ১ কম্পিউটার
  • ৭ টন
  • ৬০ হাজার মাইল
  • ৪০০ মিলিয়ন/ সেকেন্ড
  • সীমিত
  • মানবমস্তিষ্ক
  • ১.৫ কিলোগ্রাম
  • ২ লক্ষ মাইল
  • ২০,০০০ বিলিয়ন/ সেকেন্ড
  • অসীম

যে কারণে নিউরোসাইন্টিস্টরা বলেন, যে কোনো সুপার কম্পিউটারের চেয়ে মস্তিষ্ক হচ্ছে কমপক্ষে ১০ লক্ষ গুণ শক্তিশালী। একটি কম্পিউটারের দাম ৫০ হাজার টাকা। মস্তিষ্ক ১০ লক্ষ গুণ শক্তিশালী। ১০ লক্ষ দিয়ে ৫০ হাজারকে পূরণ দিলে হয় ৫ হাজার কোটি টাকা। অতএব ৫ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক আপনি।

ক্রে-১ এর পর তিন দশকে আরো অনেক শক্তিশালী সুপার কম্পিউটার তৈরি হয়েছে, কিন্তু এই কম্পিউটার গুলোও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতাকে স্পর্শমাত্র করতে পারেন নি। বরং মস্তিষ্ক নিয়ে যতই বিজ্ঞানীরা গবেষণা করছেন ততই তারা বুঝতে পারছেন বিশাল সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়িয়ে তীরে ধেয়ে আসা ঢেউই কেবলমাত্র তারা গুণছেন। মস্তিষ্কের মাত্র একটি বিষয়ও যদি আমরা দেখি তাহলেও এর বিশাল কর্মক্ষমতা ও প্রতিটি মানুষের অফুরন্ত কর্মক্ষমতা সম্পর্কে আমরা আরেকটু ধারণা করতে পারবো।

মস্তিষ্কে ১০০ বিলিয়ন নিওরোন সেল রয়েছে। প্রতিটি নিওরোন ১ হাজার থেকে ৫ লক্ষ নিওরোনের সাথে সংযুক্ত। প্রতি মুহূর্তে কমপক্ষে ১০০ ট্রিলিয়ন সংযোগ ঘটছে মস্তিষ্কে। কতগুলো যোগাযোগ সম্ভব? যুক্তরাষ্ট্রে মেডিটেশন সংক্রান্ত গবেষণার অগ্রপথিক হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের প্রফেসর ডা. হার্বার্ট বেনসন খুব চমৎকারভাবে বলেছেন, সংখ্যাটি হবে : ২৫,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০। একে আপনি অন্যভাবেও দেখতে পারেন। আপনি আপনার টেবিলে একটার ওপর একটা সাধারণ সাইজের টাইপ করার কাগজ রাখুন। রাখতে থাকুন। এটা উঁচু হতে থাকবে। আপনি যদি আপনার মস্তিষ্কের সম্ভাব্য নিওরোন সংযোগ সংখ্যার সমসংখ্যক কাগজ রাখতে চান, তাহলে কাগজের ঢিবি উঁচু হতে হতে চাঁদ পার হয়ে, সৌরজগৎ পার হয়ে গ্যালাক্সি পার হয়ে যাবে। এমনকি আমাদের জানা মহাবিশ্বের সীমানা (১৬ বিলিয়ন আলোকবর্ষ) পার হয়ে যাবে। তারপরও কাগজ রয়ে যাবে। অর্থাৎ সাফল্যের জন্য প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ দিয়েই স্রষ্টা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। প্রয়োজন শুধু এই অফুরন্ত সম্ভাবনাময় জৈব কম্পিউটারকে পরিকল্পিতভাবে বেশি পরিমাণে ব্যবহার করতে শেখা।